রংপুর সংবাদ » টাকায় মিলছে ভুমিহীনদের সরকারী ঘর

টাকায় মিলছে ভুমিহীনদের সরকারী ঘর


রংপুর সংবাদ ডিসেম্বর ৫, ২০১৯, ৭:৩৭ অপরাহ্ন
টাকায় মিলছে ভুমিহীনদের সরকারী ঘর

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটে ৫টি উপজেলায় সরকারী দূর্যোগ সহনীয় বসতঘর নির্মানের সুবিধা ভোগীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, কাঠ, রড, বাঁশ ও বালু নিয়ে বসতঘর নির্মানের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

সরকারী ঘর পেতে গুনতে হয়েছে ১৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা ও শ্রমিকদের খাওয়ার দায়িত্বও নিতে হয়েছে দুস্থ সুবিধা ভোগীদের। ঘর তৈরি হয়েছে নি¤œ মানের। জেলার ৫ উপজেলায় সরকারী ঘর নির্মান নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। ঘর দেওয়ার কথা বলে দুস্থদের কাজ থেকে আগাম টাকা নিয়ে পকেট ভড়িয়েছেন ইউপি সদস্যরা।

ঘর বিতরনে করা হয়েছে স্বজনপ্রীতি ।
সরকারী দূর্যোগ সহনীয় বসতঘর জেলায় ৫টি উপজেলায় প্রায় ৩৬১ টি ঘর পেয়েছেন দুস্থ পরিবারগণ।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, দূর্যোগ প্রবন পরিবারের দুস্থদের দূর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মানের উদ্যোগ নেয় সরকারের ত্রাণ মন্ত্রনালয়। এ জন্য দুস্থ ও অসহায় ভুমিহীন (যার ৫ শতাংশের কম জমি) এই পরিবার থেকে সুবিধাভোগী দেওয়া হয়েছে। সুবিধাভোগিদের তালিকা প্রনায়নে ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার পর্যন্ত টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের।

অসহায় দুস্থ ভুমিহীন সুবিধাভোগিদের জন্য ঘরের বারান্দাসহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘর, কড়িডোর, রান্নাঘর, টয়লেট নির্মানে বরাদ্ধ দেয়া হয় জনপ্রতি দুই লাখ ৫৮ হাজার ৫৩১টাকা। একজন সুবিধাভোগীকে একটি প্রকল্প ধরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এটি বাস্তবায়ন করছেন। তদারকি করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও)।

এ প্রকল্পের তালিকা প্রনায়নে আতœীয়করন ও অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বসুনিয়া স্বপনের বিরুদ্ধে। এ তালিকায় চেয়ারম্যান তার আপন চাচা আনোয়ার হোসেন বসুনিয়া (৫০) ও চাচি আফরোজা বেওয়া (৪৫) নাম অন্তভুক্ত করেছেন। সুবিধাভুগী আফরোজার বড় ছেলে একজন প্রকৌশলী। শুধু আতœীয়করনই নয়, অবৈধ সুযোগও নিয়েছেন বলে সুবিধাভোগীরা দাবি করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নি¤œমানের ইট দিয়ে করা হচ্ছে ঘর। বারান্দা ও কড়িডোরে ইটের পিলার দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে জিআই তারে তৈরী করা বাজারের নি¤œমানের সিঁড়ি। দরজা জানালায় দেয়া হচ্ছে আম কাঠ যা বেঁকে যাচ্ছে বলে সুবিধাভোগীদের অভিযোগ। ঘর নির্মানের বেশী ভাগ বালু ব্যবহার করা হয়েছে।

সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউপি সুবিধাভোগী ধনজঞ্জয় গ্রামের আনোয়ার হোসেন বসুনিয়া বলেন, অন্যদের কাছে বেশি নিলেও আমার কাছে তালিকায় নাম অন্তভুক্ত করতে চেয়ারম্যান ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। ঘর নির্মান শুরু হলে কাজের বালু, ভেটু বালু, রড, ছাউনির কাঠ, বাঁশ নিজেকে সরবরাহ করতে হয়েছে।

এছাড়াও শ্রমিকদের দুই বেলা ভাত খাওয়াতে হয়েছে।
সুবিধাভোগী আনোয়ার হোসেন বসুনিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন,কাজ শুরু করেই বালু, রড, কাঠ দাবি করেন চেয়ারম্যান না দিলে কাজ বন্ধ রাখেন চেয়ারম্যান। তাই বাধ্য হয়ে দুই এনজিও থেকে ৬৫ হাজার টাকা ঋন নিয়ে এসব সরবরাহ করেছি।

সুবিধাভোগী আফরোজা বেওয়া বলেন, আমার ছেলে বেসরকারী একটি ফার্মের প্রকৌশলী হলেও ঘরে নাম দিয়েছেন ভাতিজা ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন। কড়িডোর ও বারান্দায় ইটের পিলার দিলে ভেঙ্গে পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকায় বাজারের সিঁড়ি কিনে দেয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বসুনিয়া স্বপন বলেন, টাকার বিনিময়ে বা আতœীয় করনে নয়, মানবতার পরিচয় দিতে নামগুলো দেয়া হয়েছে।

সদর পিআইও’র দায়িত্বে থাকা আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) মফিজুল ইসলাম বলেন,আমি মাত্র ৩ দিন আগে দায়িত্ব পেয়েছি। এই বিষয়ে বলতে পারব না।
লালমনিরহাট সদর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) মশিয়ার রহমানের সাথে তার সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনবাসন কর্মকর্তা আলী হায়দার বলেন, ঘর নির্মানে সকল খরচ সরকার বহন করছে। সুবিধাভোগীদের কাছে কোন কিছু সরবরাহ নেয়া অন্যায়। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।