রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন

নীলফামারীতে শেষ সময়ে ভালো বেচাকিনা তবুও দুশ্চিন্তায় ইজারাদাররা

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশের সময়ঃ শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০

ইব্রাহিম সুজন, নীলফামারী প্রতিনিধিঃনীলফামারী জেলা সদরে কোরবানির পশু হাটে শেষ সময়ে অপ্রত্যাশিতভাবে বেচা-কেনা বেড়ে যাওয়ায় গো-খামারির মনে স্বস্তি এসেছে। বেশি লাভবান না হলেও কাউকেই লোকসানের বোঝা মাথায় নিতে হয়নি। ফলে ডেইরি শিল্প ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন জাগছে এ অঞ্চলের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় গো-খামার সংশ্লিষ্ট মহলে।

প্রতি বছর ঈদুল আজহার কোরবানিকে টার্গেট নিয়ে নীলফামারী জেলায় ঘরে ঘরে কৃষক পরিবারগুলো কম-বেশি দেশি জাতের গরু মোটাতাজা করে থাকেন। প্রাকৃতিক সবুজ ঘাস, খেড় ও খড়কুটোতে বেড়ে উঠা এসব গরুর গোস্তে প্রচুর শাস থাকায় এর চাহিদা সমতল ও জনপদে বেশি।

ফলে এখানকার পশুহাটে ক্রেতা-বিক্রেতার জমজমাট আসর জমে উঠে। এসবের পাশাপাশি এখানকার স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা এ খাতে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে দূর্গম এলাকায় মানুষের নিকট গরু বর্গায় লালন-পালন করেন। কোরবানির ঈদ এলে এসব গরু বাজারজাত করা হয়।

যার ফলে এ অঞ্চলে গো ব্যবসা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। গড়ে উঠেছে অসংখ্য গো-খামার।

তবে বৈশ্বিক মহামারী ও প্রাণঘাতি ‘করোনা’ ভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবার খামার ও বাসাবাড়িতে মোটাতাজা করা গরু বাজারজাত নিয়ে শঙ্কিত ছিল সবাই। কোরবানির বাজার প্রথম থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত বাজারে ক্রেতা বলতেই ছিল না। ফলে গো-খামারিরা ভেঙে পড়েছিল। কথায় বলে ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’ এবার তাই প্রমাণ হয়েছে। গত ২৫-৩১ জুলাই উপজেলায় একাধিক পশুহাটে প্রথমে ক্রেতারা লাভবান হলেও শেষ সময়ে এসে গরুর দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রেতারাও বেশ লাভবান হয়েছে। বাজার গুলোতে সমতলের প্রচুর ক্রেতা সমাগম হওয়ায় খামারি ও গরু ব্যবসায়ীর প্রাণে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মাঝারি খামারী মোঃ গোলাম মোস্তফা কামাল বলেন, জনসেবার পাশাপাশি লাখ লাখ টাকার পুঁজি বিনিয়োগ করে খামার সাজিয়েছি। এবার কোরবানির বাজারের শুরুটা ভালো ছিল না। ফলে দারুণ দুঃশ্চিতায় ভুগছিলাম। শেষমেষ বেশি লাভবান হতে না পারলেও অন্তত পুঁজিতে হোঁচট লাগেনি। ক্রেতাবান্ধন বাজার থাকায় ‘করোনা’র দূর্যোগে ক্রেতা-বিক্রেতা মোটামুটি সবাই খুশি।
এদিকে হাটের অনেক ইজারাদার জানান, মাঠে আগের মতো গরু ছাগল নেই, বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে এসেছেন। তবে বিক্রি গত বছরের তুলনায় সমতুল্য হচ্ছে না । বর্তমান সময়ে অনলাইনে গরু কেনার কারনে এবার হাটে খামারিগন গরু আনছে কম, ইজারাদারগন শেষ পর্যন্ত লোকসান গুনতে হবে।

জানা যায়, এবার নীলফামারী জেলায় কোরবানি উপলক্ষে প্রশাসনিক ভাবে সহযোগিতা ও সামজিক দূরত্ব, হ্যান্ড স্যানিডাইজার সহ বিভিন্ন ‍সুযোগ সুবিধা দেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © Rangpur Sangbad
Design & Develop By RSK HOST