বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ০৫:৪২ অপরাহ্ন

উত্তরাঞ্চলের সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষ

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশের সময়ঃ শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০

মনিরুজ্জামান সরকার মজনু,মাহির খানঃকোরবানির ঈদকে ঘিরে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে কাজ সেরে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন তারা। যদিও করোনাকালে আয়-রোজগার না থাকাসহ কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষজন ঈদকে ঘিরে আগে থেকেই ছুটে আসছে বাড়ির দিকে।

যানজটের পাশাপাশি উত্তরের পথে সড়কের বেহাল দশায় সময় বেশি লাগছে। যাত্রী সাধারণকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ।

দফায় দফায় ভারি বর্ষণ ও বন্যায় দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত মহাসড়ক ভালো নেই, বিভিন্ন স্থানে হাজারো খানাখন্দে ভরে গেছে। ফলে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। এছাড়া বন্যার দাপটে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধার অনেকস্থানে সড়ক-মহাসড়ক এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। বন্যার পানির তোড়ে কয়েকটি স্থানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে সড়ক বিভাগ বলছে বন্যার পানি কমে গেলে সড়ক মেরামতের কাজ শুরু হবে। অপরদিকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বগুড়া-শেরপুর সড়ক সংস্কারে টেন্ডার হয়েছে বলে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বন্যায় কুড়িগ্রাম জেলায় সড়কের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। সড়ক বিভাগের মতে ওই জেলায় ২৫ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি প্রাথমিকভাবে নিরুপণ করা হলেও বাস্তবে অনেক বেশি সড়কের ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানির তোড়ে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সড়কের সাতটি পয়েন্টে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। গাইবান্ধার বালাসি এলাকার ৫০০ মিটার সড়ক পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় বন্যার পানিতে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লালমনিরহাটে ২০০ মিটার সড়ক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হলেও বাস্তবে জেলার তিস্তা নদী সংলগ্ন অনেক সড়কই ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় রয়েছে।

বন্যা ও ভারি বর্ষণের ফলে তেঁতুলিয়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত মহাসড়কে সহস্রাধিক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে রংপুরে আসা যাত্রী মনু মিয়া ও দেলোয়ার হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে সড়কে যানজট ক্রমেই বাড়ছে। তার ওপর ভাঙ্গচোরা সড়কে সময় লাগছে অনেক বেশি। বগুড়া থেকে শেরপুর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়ক অতিক্রম করতে সময় লেগেছে দুই ঘন্টার ওপর। এছাড়া ঢাকা-পঞ্চগড় মহসড়কের অনেক স্থানের কার্পেটিং উঠে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এদিকে রংপুরের চার উপজেলায় ২৫ কিলোমিটারের মতো সড়কের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, তারাগঞ্জ ও পীরগাছার কোথাও কোথাও বাঁধের পাশাপাশি ব্রিজ-কালভার্টের সংযোগ সড়ক ধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। গঙ্গাচড়ায় তিস্তার বন্যা প্রটেকশন ওয়ালের তিনটি অংশে প্রায় ১৩০ মিটার অংশ ধসে পড়েছে। সেখানকার আলমবিদিতর ইউনিয়নের পাইকান আকবরিয়া ইউসুফিয়া ডিগ্রী মাদরাসার সামনে তিস্তার স্রোতে ধসে পড়েছে ৬০ মিটার বন্যা প্রটেকশন ওয়াল। ওই ইউনিয়নের গাটুপাড়ায় ৪০ মিটার ও বৈরাতি এলাকায় ৩০ মিটার এলাকার বন্যা প্রটেকশন ওয়ালের সিসি ব্লক ধসে গেছে। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় গজঘণ্টা ইউনিয়নের ছালাপাক থেকে গাউছিয়া বাজার এবং পূর্ব রমাকান্ত থেকে গাউছিয়া বাজার যাওয়ার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। গঙ্গাচড়ায় তিনটি ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। এতে করে দুইটি ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

রুদ্রেশ্বর এলাকায় ব্রিজের সংযোগ সড়কের ৪০ ফুট ধসে যাওয়ায় লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের পূর্ব ইচলী, পশ্চিম ইচলীসহ পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন হয়ে যায়। মর্ণেয়া ইউনিয়নের শেখপাড়ায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজের সংযোগ সড়কের মাটি পানির তোড়ে ধসে কয়েক হাজার মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। এছাড়া ওই ইউনিয়নের জমচওড়া এলাকায় ২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি ব্রিজের সংযোগ সড়ক ভেঙে জমচওড়া, আলালেরহাট, ছালাপাকসহ আশপাশ এচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের চকতাহিরা-দর্জিপাড়া সড়কে ব্রিজ দেবে গিয়ে প্রায় ২০ ফুট সড়ক ভেঙে গেছে। এতে করে ১০টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে পৌঁছাতে অনেক বেশি সময় লাগছে। তারপরও বন্যা-বর্ষণে আন্তজেলা অনেক সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে রংপুর সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, ইতোমধ্যে বগুড়া-শেরপুর মহাসড়ক সংস্কার কাজের টেন্ডার হয়ে গেছে। বন্যা কমলেই ওই সংস্কারের কাজ শুরু হবে। কুড়িগ্রাম জেলায় সড়কগুলো বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও রংপুরের সড়ক ও মহাসড়কের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুতগতিতে মেরামত করা হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © Rangpur Sangbad
Design & Develop By RSK HOST