বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ০৬:০১ অপরাহ্ন

তিস্তার তীব্র ভাঙনে দিশেহারা ৬৩ চরের হাজারো মানুষ

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশের সময়ঃ মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০

মাহফুজা ফারিহা বর্ষাঃবর্ষার শুরু থেকেই ভয়াল রূপ ধারণ করেছে তিস্তা। তিস্তার তীব্র ভাঙনে লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার ৬৩ চরের হাজারো পরিবার আজ দিশেহারা।

চোখের সামনে বসতভিটা হারিয়ে কাঁদছে তিস্তার পাড়ের হাজারো মানুষ। দূর্যোগ-দুর্ভোগ, নদী ভাঙ্গন তিস্তা পাড়ের মানুষের নিত্য দিনের সাথী। প্রমত্তা তিস্তা যেন জেলাবাসীর দুঃখ। নদী ভাঙ্গন পরম আত্মীয়। বছর বছর বন্যার পানি, নদী ভাঙ্গন এ যেন ৬৩ চরের পরম পাওয়া। তিস্তার ভাঙ্গন পিছু ছাড়ছে না।

তিস্তা আর ধরলা নদী বেষ্টিত লালমনিরহাটে ৫ উপজেলা চলতি বছরের মে মাস থেকে বন্যা চলমান রয়েছে। টানা ১৫/২৫ দিন পানিবন্দি থেকে মুক্তি মিলেও ভাঙ্গনের মুখে পড়ছে মানুষ।

গত সপ্তাহে থেকে পানি বন্দি থেকে মুক্তি মিলছে জেলার প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের। মুক্তি মিললেও রক্ষা পাচ্ছে না বসতবাড়ী। বন্যার পানি নেমে গেলে ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়ে তিস্তা পাড়ের হাজারো পরিবার। চোখের সামনে নদীর পেটে মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি,বাঁধ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ। ভাঙনের কবলে পড়ে প্রতি বছর নিঃস্ব হচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ। প্রতিবছর এভাবে প্রায় কয়েক হাজার হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছেন।

অনেকেই রাস্তার পাশে বা বাঁধের ধারে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। যা এক বা দুই বছরের মাথায় আবারো নদীর কড়াল গ্রাসের মুখে পড়ছে।

ভাঙন কবলিতদের পুনবাসনের জন্য সরকারিভাবে মাত্র ৭ হাজার টাকা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর থেকে লালমনিরহাট সদরের চর গোকুন্ডা, আদিতমারী উপজেলার বাহাদুরপাড়া, চন্ডিমারী, কুটিরপাড়, কালীগঞ্জের আমিনগঞ্জ, চর বৈরাতী, হাতীবান্ধার সিংঙ্গীমারী, গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ি, সির্ন্দুনা,পাটিকাপাড়া,ফকিরপাড়া ও সানিয়াজানের বাঘের চর, নিজ শেখ সুন্দর, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম তিস্তা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। ঝুঁকিতে পড়েছে সলেডি স্প্যার বাঁধসহ সব বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ। মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে আদিতমারীর কুটিরপাড়া ও বাহাদুরপাড়া গ্রামের বালুর বাঁধ।

এ দিকে লালমনিরহাটে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে আঙ্গরপোতা,সর্দ্দার পাড়া ও কাতিপাড়ায় তিস্তার পানি প্রবেশ করে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি পানির তোড়ে ভেসে গেছে। এ সময় বালু পড়ে ৩৫ একর ধানখেত নষ্ট হয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার সির্ন্দুনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন জানান, চর সির্ন্দুনা গ্রামের প্রায় দুইশতাধিক পরিবারে ঘরবাড়ি বিলিন হয়েছেন। পরিবার গুলো বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অন্য জমিতে আশ্রায় নিয়ে আছেন। ভাঙ্গনের শিকার পরিবার গুলোর তালিকা জমা দিয়েছি।

সিংঙ্গীমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু জানান, তিস্তার ভাঙ্গনের কাছে আমার জনগনের মতো আমিও অসহায়, একটি স্থায়ী বাঁধে জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।

হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউপির বাসীন্দা বাবুল হোসেন জানান, আমরা চর বাসী কিছুই চাই না শুধু একটা মনের মত বাঁধ চাই যাতে আর ঘরবাড়ি ভাঙ্গতে না হয়।
লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি বন্যায় জেলায় ৮৯১ পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন। যাদের প্রত্যেক পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ৭ হাজার করে টাকা দেওয়া হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, ভাঙনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তা নদী খনন করে বাঁধ নির্মাণের একটি প্রকল্প দেওয়া আছে। তা একনেকে অনুমোদন হলে তিস্তাপাড়ের মানুষের দুঃখ ঘুচবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © Rangpur Sangbad
Design & Develop By RSK HOST