রংপুর সংবাদ » কারো চাপের মুখে নতি স্বীকার করা যাবে না: ইলিয়াস কাঞ্চন

কারো চাপের মুখে নতি স্বীকার করা যাবে না: ইলিয়াস কাঞ্চন


রংপুর সংবাদ নভেম্বর ৩০, ২০১৯, ৮:০১ অপরাহ্ন
কারো চাপের মুখে নতি স্বীকার করা যাবে না: ইলিয়াস কাঞ্চন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছন, যারা অন্যায় করবেন, তাদেরই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পরিবহন মালিক হোক বা শ্রমিক হোক, কারো চাপের মুখে নতি স্বীকার করা যাবে না। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর বাস্তবায়ন আটকে রাখা যাবে না। মানুষকে জিম্মি করে, সরকারকে বিব্রত করে যদি কেউ এই আইন বাস্তবায়ন ঠেকানোর চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

এটাই এখন আমাদের দাবি।  

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।  

এতে আরও বক্তব্য রাখেন নিসচা’র মহাসচিব সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল,  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সাদেক হোসেন বাবুল, নিসচা’র যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ নূর নাহার ইয়াসমীন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ এবং ডিএমপির তেজগাঁও জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বিপ্লব ভৌমিককে সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে নিসচা’র নিয়মিত প্রকাশনা ‘নিরাপদ’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

পরিবহন শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ১ হাজার চালক হেলপার মারা যায়। এই যে আপনারা মারা যান, আপনাদের জন্য মালিকরা কি করে? যারা পরিবহন শ্রমিকদের ব্যবহার করে ফায়দা লুটছে, কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে তারা কতটা অংশ শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করে? আপনাদের সুরক্ষার জন্য মালিকা কি কোন টাকা ব্যয করে? আপনাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কি কোন ইনস্টিটিউশন করেছে, হাসপাতাল গড়েছে চিকিৎসার জন্য? বিষয়গুলো একবার ভেবে দেখবেন।

এসময় ইলিয়াস কাঞ্চন আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে নানা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে আমি কারো পক্ষে বা বিপক্ষে কথা বলিনা। আমি অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলি। যারাই অনিয়ম করেন, তাদের বিপক্ষে কথা বলি। কোনো চালক যদি মনে করেন, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলি, এটা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, সড়কে চলমান সংকট উত্তরণে নতুন সড়ক পরিবহন আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদার ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত কমিটি যে ১১১টি সুপারিশ করেছে, তাতে এ আইন বাস্তবায়নের পথ নির্দেশনা রয়েছে। এতে পুরো সড়ক ব্যবস্থাপনা সিসিটিভি ক্যামেরায় আওয়তায় আনার কথা বলা হয়েছে। যাতে কেউ আইন ভঙ্গ না করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেওয়ার শঙ্কা না থাকে।  

ইলিয়াস কাঞ্চন আরো বলেন, নিসচা আন্দোলনের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সময়োপযোগী সড়ক পরিবহন আইনের। সেই দাবি আজ পূরণ হয়েছে। কিন্তু দুঃখের কথা, প্রয়োগের শুরুর দিন (১ নভেম্বর) থেকেই আইনটি হোঁচট খেয়েছে। সরকার বিভিন্ন সময় ১৯৮৩ সালের আইনটি সময় উপযোগী করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এতে বারবারই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবহন সেক্টরে একটি অশুভ শক্তি। এবারও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবিতে আইনের কয়েকটি বিষয় আগামী ছয় মাস পর্যন্ত কনসিডারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বরাবরই পরিবহন সেক্টরে সেই চক্রটি বাধা সৃষ্টি করে নানা ধরনের দাবি-দাওয়া তুলে ধরে। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে দেয়। জনসাধারণের উদ্দেশ্যে নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আজ পরিবহন সেক্টরের কিছু মানুষের নৈরাজ্যের কারণে আপনাদের ভোগান্তি হচ্ছে। তবে আমি মনে করি এই ভোগান্তি সাময়িক। দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য আপনাদের এরকম সামরিক ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে। আপনারা ধৈর্য হারাবেন না।