1. rkarimlalmonirhat@gmail.com : Rezaul Karim Manik : Rezaul Karim Manik
  2. kibriyalalmonirhat84@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  3. mukulrangpur16@gmail.com : Saiful Islam Mukul : Saiful Islam Mukul
  4. maniklalrangpur@gmail.com : রংপুর সংবাদ : রংপুর সংবাদ
ডিমলায় অবৈধ বোমা মেশিনের তান্ডব থামছেই না! ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য - রংপুর সংবাদ
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন

ডিমলায় অবৈধ বোমা মেশিনের তান্ডব থামছেই না! ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

ডিমলা(নীলফামারী)প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নীলফামারী জেলাধীন ডিমলা উপজেলা খালিশাচাপানি ইউনিয়নের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসের ১০০ গজ সম্মুখে পুকুর পুনঃখননে ভেকু মেশিনের পরিবর্তে ১০থেকে ১২টি অবৈধ ৬ সিলিন্ডার ও ৮ সিলিন্ডার অবৈধ বোমা মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে পাগলাপীর-ডালিয়া মহাসড়ক সহ পুুকুরটির চারপাশের বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পাগলাপীর-ডালিয়া মহাসড়কের পার্শ্বে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫টি পুকুর পুনঃখনন হচ্ছে। পুকুরটির উত্তর দিকে বাড়ি ও আবাদি জমি। দক্ষিণ দিকে প্রধান ক্যানেলের এর উপর বড় একটি ব্রিজ। পূর্ব দিকে বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্রিজের প্রধান ক্যানেল। এবং পশ্চিম দিকে পাগলাপীর-ডালিয়া মহাসড়ক, ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস, রূপালী ব্যাংক, মসজিদ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। শোভা বর্ধন ও মৎস্য চাষের জন্য ২০২০-২১ইং অর্থবছরে ১টি প্যাকেজে পাঁচটি পুকুর পুনঃ খননের জন্য দরপত্র আহ্বান করে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ২ কোটি ৯২ লক্ষ টাকায় পুকুর পুনঃখননের কাজটি পেয়েছে মেসার্স হাসিবুল ট্রেডার্স রংপুর। মূল ঠিকাদার রংপুরের হলেও মূলত কাজটি করছেন হাতীবান্ধা উপজেলার লোকমান হোসেন।

দরপত্র আহ্বানের সময় প্রধান শর্তাবলীর মধ্যে পুকুর পনঃখননে ভেকু মেশিন ব্যবহারের কথা উল্লেখ থাকলেও সংস্কার কাজের ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। ভেকু মেশিন ব্যবহার না করে উল্টো অবৈধ বোমা মেশিন দিয়ে পুকুরের তলদেশ থেকে ঠিকাদারের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট বালুর সঙ্গে তুলছে পাথর। সেই সিন্ডিকেট এতটাই ভয়ানক ও শক্তিশালী তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস নেই কারো। প্রকাশ্য দিবালোকে বালু ও পাথর উত্তোলন করে তা বিক্রি করে সিন্ডিকেটের অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। আর অসহায় গরীব মানুষের আবাদি জমিতে বালু পড়ে জমি আবাদের অযোগ্য হচ্ছে। তাই আগামী দিনে খাবারের চিন্তায় নীরবে-নিভৃতে কাঁদছে জমির মালিকগণ। পানি উত্তোলন যন্ত্রকে (পাওয়ার পাম্প) রূপান্তর করে নাম দেওয়া হয়েছে ”বোমা মেশিন”। মাটির গভীর থেকে পাইপ দিয়ে পানি তোলার ভান করে উত্তোলন করা হয় পাথর। এই যন্ত্র চালনায় ভূগর্ভস্থ মাটির স্তর পরিবর্তন হওয়ায় ২০০৯ সালে উচ্চ আদালত এই যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। উচ্চ আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত বোমা মেশিন ব্যবহারের কারণে পাগলাপীর-ডালিয়া মহাসড়ক সহ পুুকুরটির চারপাশের বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে বিভিন্ন জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশফা উদ্দৌলা বলেন, বোমা মেশিন দিয়ে নয়, দেশীও মেশিন দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এতে কোনো ক্ষতি হবে না। সুশীল সমাজসহ অভিজ্ঞ মহল বলেন, যেখানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত বোমা মেশিন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আর সেখানে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়ে কিভাবে বোমা মেশিন ব্যবহারের পক্ষে সাফাই গান!
জবাবদিহিতা ও কাজের স্বচ্ছতার জন্যে কার্যাদেশের বিলবোর্ড টাঙ্গানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও খনন এলাকায় কোন বিলবোর্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর সংবাদ.কম
Theme Customization By NewsSun
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com