রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন

দিন কখনই চিরস্থায়ী হয় না,দিনের পরে রাত আসে:রাকিবুজ্জামান

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশের সময়ঃ শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০

মাহির খানঃগত কয়েক বছর ধরেই ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে পৃথিবী। সেই সঙ্গে মানব জাতির ওপর আঘাত হেনেছে বেশ কয়েকটি মহামারী, যার সর্বশেষ রূপ কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস। বলা হচ্ছে, গত ১০০ বছরে এমন মহামারীর মুখোমুখি হয়নি মানুষ। এই ভাইরাস পৃথিবীর কোনও দেশকেই বাদ দেয়নি। ফলে অন্যসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে করোনাভাইরাসও বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলেছে বড় আকারে।

এসব দুর্যোগ প্রাকৃতিক হলেও মূলত মানুষ নিজের কর্মেরই ফল। এজন্য মহান আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন জলে-স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদের কতিপয় কাজকর্মের জন্য তাদের শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাতে চান, যাতে করে তারা (সে কাজ থেকে) ফিরে আসে।’ (সুরা আর-রূম : ৪১)।

পবিত্র কুরআনে মানুষের ধৈর্য পরীক্ষার জন্য নানান ভয়-ভীতি ও ক্ষয়-ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবার মানুষের অপরাধ ও অবাধ্যতার কারণেও আল্লাহ তাআলা মানুষকে বিপদাপদে নিমজ্জিত করবেন বলে সতর্ক করেছেন কুরআনে।

সে কারণেই আল্লাহ মাঝে মাঝে কিছু কিছু জনপদে ভয়-ভীতির উদ্দেশ্যে কিছু রোগ-শোক দিয়ে মানুষকে পরীক্ষা করেন। আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে ইরশাদ করেন- ‘আর অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করবো কিছু ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবনের ক্ষতির মাধ্যমে এবং ফল-ফসলাদি বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে ধৈর্যশীলদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ।’ (সুরা বাকারা : ১৫৫)

আবার অনেক সময় মানুষের অপরাধ প্রবণতা স্রষ্ঠার সঙ্গেই নয় বরং মানুষের প্রতি মানুষের অন্যায়-অপরাধে মাত্রা অধিক হারে বেড়ে যায়। জুলুম অত্যাচারের মাত্রা এতো অধিক পরিমাণে বেড়ে যায় যে, অত্যাচারিত মানুষ নিরবে নিভৃতে চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করতে থাকে।

অত্যাচারিত মানুষের চোখের পানি ও কষ্ট আল্লাহ সহ্য করতে পারেন না। ফলে আল্লাহ তাআলা জমিনে আজাব-গজব নাজিল করতে থাকেন। যা মহামারী আকার ধারণ করে নতুন নতুন রোগ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকারে পৃথিবীতে নেমে আসে।

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‌‘আর তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ আসে, তা তোমাদের কর্মেরই প্রতিফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন। তোমরা পৃথিবীতে আত্মগোপন করে আল্লাহকে অক্ষম করতে পার না এবং আল্লাহ ব্যতিত তোমাদের কোনো কার্যনির্বাহী নেই, সাহায্যকারীও নেই।’ (সুরা শুরা : ৩০-৩১)

এজন্য মানুষ হিসেবে নিজেদের সমাজ, দেশ ও পৃথিবীকে রক্ষায় আমাদের কাজ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এক প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে। বৃহত্তর স্বার্থে সব বিরোধ ও বিরোধিতা ভুলে গিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় কবির সেই কবিতাই মনে পড়ে-
‘দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?’

প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাক অনেক সময় মানুষকে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করে করে তোলে। যখনই কোনো বালা-মুসিবত বা বিপদ-আপদ পৃথিবীতে নেমে আসে, তখন মানুষ আল্লাহর ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ পায়। তাই অতিবৃষ্টি, ঝড়, বন্যা প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে অসহায় মানবতার পাশে দাঁড়ানো দলমত-নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মানুষের অবশ্যকর্তব্য। বিপদের সময় বানভাসি মানুষের সেবায় এগিয়ে এসে প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। বিপদগ্রস্ত লোকেরা সাহায্যের অর্থ, ত্রাণসামগ্রী, খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ, খাওয়ার স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে খুবই উপকৃত হয়।

যাঁরা অসহায়, ক্ষতিগ্রস্ত, অভাবী, গরিব-দুঃখী এবং অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থানহীন মৌলিক অধিকারবঞ্চিত মানুষকে ত্রাণসাহায্য করে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে অসহায় মানুষ যখন পানিবন্দী অবস্থায় জীবন যাপন করছে, সমাজের বিত্তবানদের বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও সাহায্য-সহযোগিতা করা ইসলামের বিধান। টাকাপয়সা, খাদ্য, বস্ত্র, পানি, ওষুধ—যার যা কিছু আছে, তা নিয়েই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে এগিয়ে আসার এখনই সময়। বন্যা উপদ্রুত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বানভাসি মানুষ অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয় ও চিকিৎসার অভাবে অর্ধাহারে-অনাহারে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে দিন যাপন করছে। দুঃখের রজনী যেমন শেষ হতে চায় না, তেমনি বানভাসি মানুষের কাছে এখন একেকটি দিন যেন দুর্বিষহ কষ্টের অনন্তকাল।

হাদিস শরিফে দুনিয়াতে ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত মানুষকে অন্ন ও বস্ত্রদানের পরকালীন প্রতিদান ঘোষণা করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুনিয়াতে মানুষকে খাদ্য দান করেছে, সেদিন তাকে খাদ্য দান করা হবে। যে আল্লাহকে খুশি করার জন্য মানুষকে পানি পান করিয়েছে, তাকে সেদিন পানি পান করিয়ে তার পিপাসা দূর করা হবে। যে মানুষকে বস্ত্র দান করেছে, তাকে সেদিন বস্ত্র পরিধান করিয়ে তার লজ্জা নিবারণ করা হবে।’ (আবু দাউদ)

বর্ষার সময়টাতে ডেঙ্গু জ্বরেরও প্রকোপ থাকে বেশি। বর্ষার শুরুতেই নতুন করে ডেঙ্গু ভাইরাস বাহিত মশা বিস্তার লাভ করে। তাই আগাম সতর্কতা প্রয়োজন।

এছাড়া বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়াও। রোগ তত্ত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আইইডিসিআর ভাইরাসঘটিত রোগটির বিষয়ে সবাইকে আগেও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

এডিস প্রজাতির এডিস ইজিপ্টি এবং এডিস এলবোপিকটাস মশা থেকেই চিকুনগুনিয়া রোগের সংক্রমণ ঘটে। ডেঙ্গু ও জিকা ভাইরাসও এই মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং রোগের লক্ষণ প্রায় একই রকম বলে চিকিৎসকরা জানান। বর্ষার পর পর যখন মশার উপদ্রব বাড়ে, তখন চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হল এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে, তাই ফুলদানি, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে। ব্যবহৃত জিনিস যেমন মুখ খোলা পানির ট্যাংক, ফুলের টব ইত্যাদিতে যেন পানি জমে না থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

দিন কখনই চিরস্থায়ী হয় না, দিনের পরে অবশ্যই রাত আসে। একবার খাবার গ্রহণের পর পুনরায় খাবার গ্রহণ করতে হয়। একবার ঘুম থেকে জাগবার পর আবার পুনরায় ঘুমাতে হয়। একবার অসুস্থতা থেকে সুস্থ হলে আবারও অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একবার আনন্দিত হলে আবার কোনো এক সময় দুঃখও আসে। পথ হারালে আবার পথ খুঁজে পাবার আশাও রাখে। কখনো সময় ভালো থাকে আবার কখনো খারাপ হয়। এভাবেই সবকিছু পরিবর্তিত হতে থাকে। এটায় আল্লাহর সৃষ্টির নিয়ম।

অতএব, হতাশ হবেন না। অবস্থা একই রকম থাকা অসম্ভব। দিনগুলো ও বছরগুলো পালা করে ঘুরে ঘুরে আসে। ভবিষ্যৎ অদৃশ্য আর প্রতিদিনই আল্লাহ্ তায়ালার কিছু কাজ করার থাকে। আপনি তো এটা জানেন না, তবে এমনটা হতে পারে যে, আল্লাহ তায়ালা পরবর্তীতে নতুন কিছু আনবেন।বিশ্বাস রাখুন রবের প্রতি । সুখের আশায় কষ্টের সময়গুলোকে অতিবাহিত করুন।

বহুমুখী দুর্যোগ প্রশমন বা এর সাথে খাপ খাইয়ে চলার জন্য প্রয়োজন একটি প্রযুক্তিগত জ্ঞানলব্ধ এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন একটি টেকসই সমাজ। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। তবে শুধু সরকারের ভূমিকাই এক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। ব্যক্তি পর্যায়ে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

একটা সুখবরের কথা জানিয়ে শেষ করতে চাই। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বিষয়ভিত্তিক দূত মনোনীত হয়েছেন সফল মায়ের সফল কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তিনি জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পক্ষে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, গোষ্ঠীকে একত্রিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বহুমাত্রিক নেতৃত্ব ও মানব সেবায় অবদান রেখে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

আপনার অর্জনে বাংলাদেশ গর্বিত। আপনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।সুত্রঃRakibuzzaman Ahmed-এর টাইমলাইন থেকে নেয়া।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © Rangpur Sangbad
Design & Develop By RSK HOST