রংপুর সংবাদ » রংপুরে তিস্তার ভাঙনে বিদ্যালয় ভবন বিলীন, চালা ঘরে চলছে পাঠদান

রংপুরে তিস্তার ভাঙনে বিদ্যালয় ভবন বিলীন, চালা ঘরে চলছে পাঠদান


রংপুর সংবাদ নভেম্বর ২৮, ২০১৯, ৭:৫৬ অপরাহ্ন
রংপুরে তিস্তার ভাঙনে বিদ্যালয় ভবন বিলীন, চালা ঘরে চলছে পাঠদান

সাইফুল ইসলাম মুকুল,রংপুরঃ

দুই বছর আগে তিস্তা নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা পূর্ব শিবদেব চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বন্দ্বের কারণে বিষয়টি ঝুলে আছে নতুন করে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ। ফলে গ্রামবাসী ও শিক্ষকদের নিজস্ব অর্থায়নে পাশের নয়ারহাট বাজারে সরকারিভাবে নির্মিত একটি তরকারি বিক্রির শেডের পাশে টিন দিয়ে চালাঘর তৈরি করা হয়েছে।

ওই ঘরে বানানো হয়েছে তিনটি কক্ষ। ছোট ছোট কক্ষগুলোতে গাদাগাদি করে বসে চলছে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। এনিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে পীরগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নতুন করে কেউ বিদ্যালয়ের নামে জমি দান করলেই কেবলমাত্র দ্রুত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ১৭০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। কর্মরত আছেন তিনজন শিক্ষক। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থী ছিল ২২০ জন। কিন্তু ভবন না থাকায় গাদাগাদি করে পাঠদানের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা ছেড়ে দিয়েছে। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়।

২০১৪ সাল থেকে ভবনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। ২০১৭ সালে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়লে চেয়ার, টেবিল ও আসবাবপত্র আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। মাঝে বেশ কিছুদিন বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

পরে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় নয়ারহাট বাজারে তরকারি বিক্রির একটি শেডে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু শেডটিতে জায়গা না হওয়ায় শিক্ষকদের নিজস্ব অর্থায়নে পাশেই একটি টিনের চালা ঘর তুলে চারপাশে পুরনো টিনের বেড়া দিয়ে তিনটি অংশে ভাগ করা হয়েছে। সেখানেই এখন গাদাগাদি করে বসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। নতুন করে ভবন নির্মাণে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফছানা পারভীন ও ফরিদুল ইসলাম জানান, তাদের চোখের সামনে প্রিয় স্কুলটি নদীতে তলিয়ে গেছে। এখন চালা ঘরে তাদের ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। নতুন করে ভবন নির্মাণ হলে ভালো হয়।

স্থানীয় গ্রামবাসীর সাথে বলা বলে জানা গেছে, দুই বছর আগেও ওই গ্রামের বসতি ছিল, ছিল কোলাহল। জনবসতিপূর্ণ গ্রামের ভেতরেই নির্মাণ করা হয়েছিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনটি। শিশু শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

অথচ এসব আজ শুধুই স্মৃতি। নদীভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে সব কিছু। গ্রামবাসি ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বালুর বস্তা ফেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বন্যায় তিস্তার নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে তীর থেকে প্রায় ৩০ ফুট নিচে তলিয়ে যায় বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ বলেন, ২০১৭ সালের ১২ আগস্ট থেকে বিদ্যালয় ভবনটি তিস্তার ভাঙনের কবলে পড়ে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। নানা সংকটের মধ্যেও টিনশেডে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

এদিকে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, পীরগাছা উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় গ্রামাবসীর অনেক চেষ্টার পরেও ভাঙনের হাত থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা যায়নি। একটি টিনশেড চালা ঘরে এত শিক্ষার্থীর পাঠদান করা খুবই কষ্টকর।

এব্যাপারে পীরগাছা উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিক-উজ-জামান বলেন, বিদ্যালয়ের জমির জন্য স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বন্দ্বের কারণে বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দ্বন্দ্বের বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামাধান হলেই এলজিইডির মাধ্যমে নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাবণা পাঠানো হবে।