মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ১১:৫২ অপরাহ্ন

আমরা ভাগ্যবান,শেখ হাসিনার মতো প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি-রাকিবুজ্জামান আহমেদ

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশের সময়ঃ রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০
  • ১৩৫ জন দেখেছেন

মাহির খানঃরূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ বলেছেন-
এক গাছা দড়ি হাতে গিয়েছিলে তবু একা-একা;
যে-জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের— মানুষের সাথে তার হয়নাকো দেখা
এই জেনে।

মানুষের জীবন অনেক দামি। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার তাগিদ দিয়েছেন। দিয়েছেন সুস্থ থাকার তাগিদ। অথচ মানুষ জীবন বাঁচাতে যেখানে সতর্কতা অবলম্বন করবে, সেখানে মানুষ সতর্ক না হয়ে বেপরোয়া জীবন যাপন করে।

জীবনে কিছু কিছু সময় আসে, যা আমাদের সবাইকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে যায়। মুসলমান হিসেবে আল্লাহর উপর আমাদের বিশ্বাস এবং ভরসা রাখা খুব প্রয়োজন। আমাদের রাসূল (সা.) ২২/২৩ বছর ধরে বিশ্বাস বাড়ানোর জন্য কষ্ট করেছেন। নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত সবই ফরজ কিন্তু আসল বিষয় হলো বিশ্বাস ও আল্লাহর প্রতি ভরসা। আর করোনার এই সময়ে বিশ্বাস বাড়ানো, ঈমান মজবুত করা ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করায় হচ্ছে মূল শিক্ষা।

যেকোনো বিপদে বান্দা আল্লাহমুখী হোক এবং তাঁর কাছে ক্ষমা ও আশ্রয় প্রার্থনা করুক এটাই মহান প্রতিপালক আল্লাহর প্রত্যাশা। পবিত্র কোরআনের একাধিক স্থানে বিপদে আল্লাহমুখী হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তাই মহামারি দেখা দিলে মুমিনের প্রধান কাজ হলো নিজের ভুল ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে বিনীত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

ভীতিকর শোনালেও বাস্তব তথ্য বলছে, করোনা সহজে বিদায় নেওয়ার মতো ভাইরাস নয়। দীর্ঘদিন প্রাণঘাতী করোনা বিপদের বিরুদ্ধে লড়াই করেই বাঁচতে হবে পৃথিবীর মানুষকে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমনই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে।

ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন এখন অনেকটায় অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ ক্লিনিক প্রধানের মতে আমাদের কোভিড-১৯ এর সাথে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর থাকতে হতে পারে। এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তেমনি এজন্য আতংকিত হওয়ারও দরকার নেই। আমাদের জীবনকে অকার্যকর না করে চলুন এটার সাথে মানিয়ে নিতে শিখি।

আমরা দেখেছি, করোনার কাছে ধনী-গরিব বলে কোনো ভেদাভেদ নেই। ধনী যেমন তাতে আক্রান্ত, তেমনি গরিবও। মৃত্যুর ক্ষেত্রেও বৈষম্য নেই। করোনার শিক্ষা এই যে, মৃত্যুতে যখন সবাই সমান, তেমনি জীবিতকালেও পরস্পরের মধ্যে এই সমতা থাকতে হবে।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া যেমন নিশ্চিত মৃত্যু নয়। তেমনি এখান থেকে বেঁচে যাওয়াও নতুন জীবন নয়। জীবন মৃত্যু আল্লাহর হাতে। আমাদের ভরসা রাখতে হবে আল্লাহ তায়ালার উপর। কোনো হতাশা বা দুশ্চিন্তা নয়, ভরসা রাখুন আল্লাহর উপর। যতবড় বিপদই আসুক না কেন আল্লাহর রহমত তার থেকে অনেক বড়।

করোনাকারণে যেসব ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ গোচর হয়ে উঠেছে, তাতে সহজাত বোধ-বিবেচনাসম্পন্ন মানুষের জন্য রয়েছে শিক্ষা। সর্বশক্তিমান ও সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ। সব কিছুই তাঁর অধীন। কোনো কিছুই তাঁর এখতিয়ারের বাইরে নয়। এই সত্য যদি মানুষের চৈতন্যে আসে তবে সেটাই হবে, সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

চলমান এ সংকট থেকে আমরা প্রথম যে বিষয়টি শিখতে পারি তা হলো, আমাদের অনেক বেশি বিনয়ী ও বিনম্র হতে হবে। এই মহামারি আমাদের জানিয়ে গেল যে, আমরা কেউই শক্তিমান নই। একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই সর্বোচ্চ শক্তি ধারণ করে আছেন। কোনো মানুষই অতিমানব নয়, কারও হাতে বিশেষ কোনো ক্ষমতা নেই।মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে পৃথিবী বদলাতে ব্যাস্ত আর সেই পৃথিবী আল্লাহর হুকুমে গত কয়েকমাস থেকে মানুষ বদলিয়ে ফেললো।

এ মহামারির কারণে স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক মানুষগুলো নতুন করে পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীর গুরুত্ব অনুধাবন করবে। কেউ যদি অসুস্থ হয় তাহলে তার পাশে সবার আগে তার আত্মীয় ও শুভানুধ্যায়ীরাই আসবে। আমাদের মধ্যে অনেকেই শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকি। শুধুমাত্র নিজেই জীবনে সুখে থাকাটা জীবনের স্বার্থকতা নয়। এটি একধরনের স্বার্থপরতাও বটে। এটা ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং আমাদের আশপাশের মানুষগুলোকে এবং সমাজটাকে সুখে রাখতে পারাটায় হচ্ছে জীবনের বড় স্বার্থকতা।

এছাড়া কোনো সভ্য সমাজও এই জাতীয় চিন্তাধারা অনুমোদন করে না। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরকে ভালোবাসার যেমন দরকার আছে ঠিক তেমনি আবার অপরের কাছ থেকে ভালোবাসা পাওয়ারও প্রয়োজন আছে। করোনা ভাইরাস একটি সুন্দর রিলেশন, সুন্দর পরিবার, সুন্দর সমাজের গুরুত্বকে যেন নতুন করে প্রতিষ্ঠা করে।

মানুষ চেনা যায় জীবনে চলার পথের কঠিন সময়গুলোতে। মানুষের জন্য নি:স্বার্থভাবে করলে তার প্রতিদানে জীবনের দুঃসময়ে নি:শর্ত দোয়া ভালোবাসা পাওয়া যায়। জীবনে কিছু চরম স্বার্থপর লোভী চরিত্রহীন অকৃতজ্ঞের জন্য উজাড় করে করলেও তাদের বিশ্বাসঘাতকতার ভয়ংকর কুৎসিত চেহারা প্রবল ঝাঁকুনি দেয়। কিন্তু এতে আমি বিভ্রান্ত নই। বিশ্বাসঘাতকতায় ওরা বেড়ে ওঠে যেমন, তেমনি এদের জীবন গ্লানির। অন্যদিকে অজস্র মানুষের নির্মল ভালোবাসায় এসব জঘন্য চরিত্র তলিয়ে যায়। প্রকৃত পরোপকারী সৎ সরল হৃদয়বানরাই মর্যাদা নিয়ে তৃপ্তির জীবনযাপন করে।

জীবনে অনেক বিষয় আছে যেগুলো আপনার/আমার নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। সেগুলো নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই। কারণ এর বাহিরেও আপনার হাতে হাজারও বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে মাথা ঘামান সেগুলো নিয়ে চিন্তা করুন লক্ষ্যপানে পৌঁছাতে সহজ হবে।

আকাশের পানে তাকান। দেখবেন আপনি একা নও। অনেক মহৎ ও ভালো মানুষ আপনাকে সাহায্য সহযোগিতা করে যাওয়া জন্য প্রস্তুত আছে। প্রয়োজন শুধু সামন্যটুকু এগিয়ে গিয়ে সম্মান ও ভালোবাসার। যারা স্বপ্ন দেখে এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য কাজ করে শুধু মাত্র তাদেরকেই শ্রেষ্ঠতা দেওয়ার জন্য প্রস্তত থাকে এই বিশ্ব। পুরো মহাবিশ্বই আমাদের প্রতি বন্ধুত্বসুলভ। জীবন মানে নিরন্তর ছুটে চলা। বহু বাঁধা বিপত্তি প্রতিকুলতায় রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত হওয়া। সেই ক্ষত মুছে আবার প্রবল গ্রাসে ঝাঁপিয়ে পড়া। সংগ্রাম ও সাফল্যই ত জীবন।

লেখক ও দার্শনিক ড. নরম্যান ভিনসেন্ট পিল তাইত বলেছেন, “নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখো! নিজের যোগ্যতার ওপর ভরসা রাখো! নিজের শক্তির ওপর বিনয়ী কিন্তু যথেষ্ঠ আস্থা ছাড়া তুমি সফল বা সুখী হতে পারবে না।”

জীবনে অসংখ্য বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ী, শুভার্থী ও ভালো মানুষ পেয়েছি। নানা চড়াই-উৎরাইয়ে সবাই পাশে থাকেন। আল্লাহর রহমত আর অজস্র মানুষের ভালোবাসাই শক্তি। তাই মানুষের প্রতি সরল বিশ্বাস ও ভালোবাসা আরও প্রবল হয়ে ওঠে। মানুষের ভালোবাসাই আমার শক্তি। মানুষকে ভালোবাসা ও তার প্রতি দায়িত্ববোধ বড় ইবাদত। মর্যাদাবোধ ও মানুষের ভালোবাসাই আমাকে মাথা উঁচু করে বাঁচায়।

সভ্যতার সৃষ্টিলগ্ন থেকেই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ধারণকে ব্যহত করেছে বারং বার। তবুও মানুষ শত প্রতিকূলতাকে হারিয়ে বারবার এ পৃথিবীকে করেছে কর্মময়। এমনি এক বৈশ্বিক দুর্যোগ কোভিড-১৯। যার তাণ্ডবলীলায় আজ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জীবনযাত্রা। ইতোমধ্যে মহামারি আকার ধারণ করা এ ভাইরাসটি বিশ্বের ১৭৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় এক কোটি মানুষ এবং মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষাধিক।

হঠাৎ করেই এই অজানা ভাইরাসের আক্রমণে পুরো বিশ্বের স্বাস্থ্যব্যবস্থা অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশেও করোনাভাইরাসের কারণে চিকিৎসাব্যবস্থা পুরোটাই ভেঙে পড়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক প্রশাসন,পুলিশ, সেনাবাহিনী ডাক্তার ,সাংবাদিক এবং সরকারি বিভিন্ন কাজে জড়িত কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যক্তি ও বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ জনগণের জন্য নিজেদের উজাড় করে কাজ করে যাওয়া প্রকৃতপক্ষেই প্রশংসার দাবিদার।

এমনকি জনসাধারণের জন্য কাজ করতে গিয়ে জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ডাক্তারসহ অনেক জনপ্রতিনিধি তাদের জীবন হারিয়েছেন। তাদের এ ত্যাগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আমরা ভাগ্যবান যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। বিশ্বের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফোর্বসে করোনা মোকাবিলায় সফল নারী নেতৃত্বের তালিকায়ও নাম রয়েছে তাঁর।

মহান আল্লাহ বান্দার কৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন। আসুন, কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। তাঁর প্রশংসা করি এবং এ মহামারীর বিপর্যয় থেকে সুরক্ষার জন্য তাঁর কাছে প্রার্থনা করি । জীবনে কোন কিছুই স্থায়ী নয় এমনকি আমাদের সমস্যাগুলোও নয়।জীবন যতক্ষণ আছে সমস্যাও ততক্ষণ থাকবেই । পৃথিবীতে যা কিছু হারিয়ে যায় অন্য কোন রূপে সেটি আবার জীবনে ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ ।

সংগ্রহঃRakibuzzaman Ahned এর টাইমলাইন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

© All rights reserved © Rangpur Sangbad
Design & Develop By RSK HOST