মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ১১:৫৭ অপরাহ্ন

তিস্তার পানি বৃদ্ধি:২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশের সময়ঃ রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০
  • ৭৯ জন দেখেছেন

মাহির খানঃকয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তার পানি ফের বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খুলে দেয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারেজের সবগুলো জলকপাট। প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, ২৫ জুন রাত থেকে বাড়তে থাকে তিস্তার পানি প্রবাহ। পরে শুক্রবার (২৬জুন) সকাল ৬টার দিকে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে রেকোর্ড করা হয়। তবে শনিবার সকাল ৯টার দিকে পানি কমলেও বিকেল থেকে পানি বেড়ে বিপৎসীমার ২০সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে ধরলার পানি লালমনিরহাটর কুলাঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে জানান পাউবো।
স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে টানা ২৪ ঘণ্টা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তিস্তা নদী। এতে নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। যা ক্রমে কমে গিয়ে বন্যার উন্নতি ঘটে। এর রেশ কাটতে না কাটতে শনিবার আবারও উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তার পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুণ্ডা, ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে গত তিনদিন থেকে তিস্তা ধরলার ৬৩ চরের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়লেও ত্রাণ সহায়তা পাননি বানভাষী মানুষ।
তবে তিস্তায় পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের সবজি, বাদাম ও ভুট্টাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেক মৎস খামারের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। অনেকের ফসলের ক্ষেত বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে ফসলহানীর শঙ্কায় চিন্তিত কৃষকরা। তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।
জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন জানান, পানি বৃদ্ধি পেয়ে তার ইউনিয়নের প্রায় ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগে রয়েছে বানভাসী মানুষ। কিন্তু এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি সরকারী সাহায্য সহযোগিতা।
তাদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে।
সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, তিস্তা তীরবর্তি বাগদাড়া এলাকার রবিউল ইসলাম জানান, তিস্তার পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় তার ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার পনিবন্দি হয়ে পড়েছে। চরম বিপাকে পড়েছে বানভাষী মানুষ। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের, তিনদিন অতিবাহিত হলেও এখনও মেলেনি ত্রাণ সামগ্রী।
দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র দোয়ানী ডালিয়া’র নির্বাহী প্রকোশীলী রবিউল ইসলাম জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ আরো বেড়েছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি আর উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলসহ তিস্তা তীরবর্তি এলাকার মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুপুর ১২টার দিকে ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২০ সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলেও জানান পাউবোর এই কর্মকর্তা।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, এখন পর্যন্ত জেলার ৩টি উপজেলা থেকে ৭ হাজার লোক পানিবন্দি হয়েছেন বলে উপজেলা প্রশাসন থেকে তালিকা করা হয়েছে। তাদের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যেই ৮০ মেট্রিক টন চাল ও ৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

© All rights reserved © Rangpur Sangbad
Design & Develop By RSK HOST