রংপুর সংবাদ » দীর্ঘ ১৩ বছর পর হচ্ছে রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল

দীর্ঘ ১৩ বছর পর হচ্ছে রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল


রংপুর সংবাদ নভেম্বর ২৫, ২০১৯, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
দীর্ঘ ১৩ বছর পর হচ্ছে রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের  কাউন্সিল

সাদ্দাম হোসেন ডেমি, রংপুর:

দীর্ঘ ১৩ বছর পর আগামী ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন একই দিনে এক সাথে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতা কর্মীদের মাঝে ব্যাপক কর্মচাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ভোট প্রার্থনা অনেকেই আবার ঢাকায় দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে দোয়া চাইছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল হবার ঘোষনা দেয়া হয়েছিলো এতে ২৬ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের এবং পরের দিন ২৭ নভেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবার হবার কথা কিন্তু ৭/৮ দিন আগে সেই তারিখ পরিবর্তন করে একই দিনে ২৬ নভেম্বর সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষনা করা হয়েছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেরন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন যুগ্ন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক সহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন সাংগঠনিক সম্পাদক। সম্মেলন সফল করার জন্য ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন।

জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশন এক সাথে আহবান করায় দলের তৃনমুল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের মাঝে কিছুটা অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সম্মেলনের পর কাউন্সিল অধিবেশন হবে কিনা আর হলেও কাউন্সিলারদের সরাসরি গোপন ব্যালটে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে কিনা সে ব্যাপারটি তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। কারন রংপুর পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে সম্মেলন ও কাউন্সিলের ভেন্যু নির্ধারন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিশ্চুক কয়েকজন জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতা জানিয়েছেন এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালে রংপুর টাউন হলে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হলেও কাউন্সিল অধিবেশন না করেই দলের শীর্ষ নেতারা ঢাকায় চলে যান।

এরপর ঢাকা থেকেই জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিধারন করে দেয়া হয়। এবারেও একই পদ্ধতি নেয়া হবে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছে না তারা। কারন হিসেবে তারা বলেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে এবার রেকর্ড পরিমান সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক প্রার্থী প্রতিদ›িদ্বতা করার ঘোষনা দিয়েছেন। অনেকেই আবার প্রার্থী হবার ঘোষনা দিয়ে নগরীতে বিশাল বিল বোর্ড লাগিয়েছেন আবার ২/৪ জন প্রার্থী সরাসরি কাউন্সিলারদের সমর্থন আদায়ের জন্য বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন ভোট চাইছেন। অন্যদিকে ২/৪ জন প্রার্থী সভাপতি বা সম্পাদক হয়ে গেছেন এমন ভাব নিচ্ছেন। ফলে কাউন্সিলরদের মতামত ছাড়া উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া কমিটি চান না বেশীর ভাগ তৃনমুল নেতা কর্মীরা। তারা চান সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করা হোক।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি প্রার্থী হচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে তারা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ত্যাগি নেতা ইলিয়াছ আহাম্মেদ তার ক্লিন ইমেজ রয়েছে বলে তৃনমুল নেতা কর্মীরা জানিয়েছেন। এ ছাড়াও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু, বর্তমান সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্য্ক্ষা আবুল কাশেম সহ আরো বেশ কয়েকজনের নাম শেনা যাচ্ছে। তবে এর মধ্যে ইলিয়াছ আহাম্মেদ, মোসাদ্দেক বাবলু , মমতাজ উদ্দিন ও আবুল কাশেম সভাপতি প্রার্থী হবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাধারন সম্পাদক পদে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেতাহার হোসেন মওলা , বিসিবির পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম , আওয়ামী লীগ নেতা তুহিন চৌধুরী সহ আরো বেশ কয়েকজন নেতা। তবে বর্তমান সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু আবারো সাধারন সম্পাদক পদে থাকছেন বলেও শোনা যাচ্ছে।

অপরদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি শাফিয়ার রহমান , আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম সহ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। সাধারন সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারন সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল , আওয়ামী লীগ নেতা শামীম তালুকদার , বর্তমান প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন তোতা সহ বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারন সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডলের নাম আবারো আলোচনা হচ্ছে দলের শীর্ষ মহলে এমনটাও বলছেন মহানগর আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা। এমনও হতে পারে সভাপতি শাফিয়ার রহমান ও সাধারন সম্পাদক পদে তুষার কান্তি মন্ডল আবারো থেকে যেতে পারেন এমনটাও শোনা যাচ্ছে। মহানগর আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য ২ জন প্রার্থী নিজে ও তাদের লোকজন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন বিনিময়ে কিছু দেবেন বলে কয়েকজন কাউন্সিলর জানিয়েছেন।

তবে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল এক সাথে হবার কারনে অনেকেই সম্মেলন হবে তবে কাউন্সিল অধিবেশন না হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারনা করছেন এ ক্ষেত্রে হয় সমঝোতা না হয় প্রার্থীদের মধ্যে থেকে অথবা যাদের নাম শোনা যাচ্ছেনা এমন নেতারাও সভাপতি সম্পাদক হতে পারেন বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিগত দিনের কর্মকান্ড সহ সার্বিক বায়োডাটা এখন দলের হাইকমান্ড এর হাতে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে দলে বির্তকিত কর্মী বান্ধব নয় এমন নেতারা এবার নেতৃত্বে আসতে পারছেননা বলেই জানা গেছে। তবে তৃনমুল পর্যায়ের নেতা কমৃীদের দাবি সকলের কাছে গ্রহন যোগ্য দলের জন্য নিবেদিত প্রান ক্লিন ইমেজ রয়েছে এমন নেতাদের নেতৃত্বে আনা উচিত।

এদিকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিণ অধিবেশনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল।