মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

সরিয়ে নেয়া হলো ‘ইনটু দ্য ওয়াইল্ড’ সিনেমার সেই বাস

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশের সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০
  • ১৯ জন দেখেছেন

বিনোদন ডেস্কঃযারা ‘ইনটু দ্য ওয়াইল্ড’ মুভিটা দেখেছেন তাদের ক্রিস ম্যাকক্যান্ডেলস সম্পর্কেও দু’চার তথ্য জানার কথা। মুভিতে যে তরুণ আলাস্কার বুনো পরিবেশে একটা ভাঙা ছোট বাসে একাকী থাকতেন এবং শেষ পর্যন্ত সেখানেই মারা গেলেন, তিনিই ক্রিস। তিনি রূপালি পর্দার কোনো কল্পিত চরিত্র নন, একেবারে বাস্তবিক। ক্রিস আলাস্কার যে গাড়িটাতে রাত্রি-দিনযাপন করতেন, সেই গাড়িটাকে ওখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো। এই গাড়িটা আলাস্কার বুনো-কঠিন পরিবেশের বিমূর্ত চিত্র ছিল পর্যটকদের কাছে। গত বৃহস্পতিবার ১৮ জুন ওটাকে তুলে নেয় একটি হেলিকপ্টার।

১৯৪০ এর দশকের ফেয়ারব্যাঙ্কস সিটির বাসটাকে আলাস্কা ন্যাশনাল গার্ড এর একটি হেলিকপ্টার উঠিয়ে নিয়ে গেছে।

‘ইনটু দ্য ওয়াইল্ড’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রটাকে দর্শক যা যা করতে দেখেছেন, ভার্জিনিয়ার ম্যাকক্যান্ডেলসের জীবনে ঠিক তাই ঘটেছিল। ২৪ বছর বয়সী সেই তরুণ সদ্য গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন আলাস্কার বুনো সৌন্দর্যটাকে দেখতে। এটা ১৯৯২ সালের ঘটনা। দীর্ঘ রুক্ষ পথ হেঁটে তিনি ওই বাসটির দেখা পান। সেই বাস তার আশ্রয় হয়ে যায়। ওটা অ্যাঙ্করেজ থেকে ২৫০ মাইল উত্তরে যেন তার মতোই একা ম্যাকক্যান্ডেলসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। ওখান থেকে আর ফিরতে পারেননি অভিযাত্রী ক্রিস। মানববসতি ছিল না সেখানে। ফেরাও সম্ভব হয়নি টেকলানিকা নদীতে ভয়ংকর পানি বৃদ্ধির কারণে। খাবারের অভাবে অবশেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

সেখানে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আর একাকী সময়ের কথা লিখে যান একটি নোটবইয়ে। তার মৃত্যুর মাসখানেক পর শিকারীরা সেখানে অভিযাত্রীর দেহাবশেষ দেখতে পান। আরো খুঁজে পান তার সেই নোটবুক।

সেই ম্যাকক্যান্সডেলসের জীবন আর তার একাকী ছুটে চলার কাহিনি ফুটে ওঠে ১৯৯৬ সালের ক্রাকৌরের ‘ইনটু দ্য ওয়াইল্ড’ বইয়ে। পরে ২০০৭ সালে বইটাকে পর্দায় আনেন সিন পেন। ম্যাকক্যান্ডেলসের চরিত্রে মিশে গিয়েছিলেন অভিনেতা এমিলে হিরচ। তাকে স্ক্রিন অ্যাকটর গিল্প নমিনেশন দেওয়া হয়েছিল।

সেই বাসটা কিন্তু ওখানেই ছিল দীর্ঘদিন। শিকারীদের জরুরি আশ্রয় হিসেবে ওটাকে রাখা হয়েছিল সেখানেই। ১৯৬১ সাল থেকে বাসটা ওখানেই পড়ে রয়েছে। প্রচণ্ড রুক্ষ পরিবেশে যারা ঘুরতে বা শিকারে যান, তাদের সেখানকার অবিশ্বাসী পরিবেশে টিকে থাকতে লড়তে হয়। পরিত্যক্ত বাসটা অনেকের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠে।

ওখানকার ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস কমিশনার কোরি ফিজ বলেন, আলাস্কার বুনো পরিবেশ উপভোগের অনুপ্রেরণা দেই আমরা। আমরা জানি এই বাসটি অভিযাত্রীদের মাঝে জনপ্রিয় এবং তাদের মাঝে রোমাঞ্চ জাগায়। কিন্তু এই পরিত্যক্ত আর ক্রমশ ক্ষয়ে যেতে থাকা বাসটি সরিয়ে নিয়ে অনেক খরচ পড়ে গেছে। কাজটা ঝুঁকিপূর্ণও ছিল, জানান তিনি। এছাড়া এই বাস অভিযাত্রীদের থাকার জন্যে ঝুঁকিপূর্ণও হয়ে উঠেছিল।

ম্যাকক্যান্ডেলসের বোন ক্যারিন ম্যাকক্যান্ডেলস বাসটি সরিয়ে নেয়ার খবরে চমকে গেছেন। বললেন, ‘আমি খবরটি শুনে চমকে গেছি। এটা শোনার পর মনটা খারাপ লাগছিল। কিন্তু অনেক ভালো কিছুর চিন্তা করেই ওটাকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বাসটা ক্রিস বা তার পরিবারের সম্পত্তি নয়।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ

© All rights reserved © Rangpur Sangbad
Design & Develop By RSK HOST