রংপুর সংবাদ » ধান কেনার ‘কৃষক অ্যাপ’ সর্ম্পকে জানেন না রংপুরের কৃষকরা

ধান কেনার ‘কৃষক অ্যাপ’ সর্ম্পকে জানেন না রংপুরের কৃষকরা


রংপুর সংবাদ নভেম্বর ২৪, ২০১৯, ৪:৫১ অপরাহ্ন
ধান কেনার ‘কৃষক অ্যাপ’ সর্ম্পকে জানেন না রংপুরের কৃষকরা

রংপুর প্রতিনিধিঃ

দেশ জুড়ে আমন মৌসুমে ধান শুরু হলে এর মধ্যে সরকারিভাবে আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহ শুরু করেছে খাদ্য বিভাগ। গত বুধবার দেশের সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ধান কে না চলবে আগামী ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত।

এবার ধান সংগ্রহে ডিজিটাল পদ্ধতি ‘কৃষকের অ্যাপ’ নতুন মাত্রা যোগ এনেছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের আট বিভাগের ১৬ উপজেলা থেকে মধ্যে রংপুর সদর উপজেলায় প্রথম বারের মতো ধান কেনাবেচায় থাকছে ডিজিটাল পদ্ধতি।

স্মার্টফোন ব্যবহার করে কৃষক চাইলে মাঠ থেকেই ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ধান বিক্রি করতে পারবেন। নিবন্ধন, বিক্রয়ের আবেদন, বরাদ্দের আদেশ ও মূল্য পরিশোধের সনদ-সব তথ্যই এসএমএসের মাধ্যমে। ‘কৃষকের অ্যাপ’-এ রংপুর বিভাগের মধ্যে রংপুর সদর উপজেলা ও দিনাজপুর সদর উপজেলা ধান কেনা হবে।

‘কৃষকের অ্যাপ’ এর মাধ্যমে ধান সংগ্রহে সরকারের সিদ্ধান্তে সচেতন মহল খুশি হলেও ধোঁয়াশায় আছেন আমন চাষিরা। এর প্রক্রিয়া কী হবে, সে প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ হবে এবং ন্যায্যমূল্য পাবেন কি-না এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কৃষকদের মনে। অনেক কৃষকই জানে না কৃষকের অ্যাপ কি? তবে খাদ্য বিভাগ বলছে কৃষকদের ধোঁয়াশা কাটাতে শিগগিরই ‘কৃষকের অ্যাপ’ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট লাহিরী পাড়া গ্রামের আকবার আলী বলেন, দশ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি ধানের ফলনও বাম্পার হয়েছে এবার ধানের দাম পাব কিনা তা নিয়ে চিন্তায় আছি। শুনলাম এবার নাকি মেশিন দিয়ে ধান কিনবে। কিন্তু কোন ধারনে মেশিন ধানে ব্যবহার করা হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

উপজেলার হরিদেবপুর,মমিনপুর ও খলেয়া ইউনিয়নের কৃষকরা জানান,‘কৃষকের অ্যাপ’ কি?কিভাবে ধান কিনবেন সরকার তা কিছুই জানেন না তারা। ‘কৃষক অ্যাপ’ কৃষকদের তেমন সারা মেলেনি। ‘কৃষকের অ্যাপ’ এর মাধ্যমে ধান সংগ্রহে সরকারের সিদ্ধান্তে সচেতন মহল খুশি হলেও ধোঁয়াশায় আছেন আমন চাষিরা।

এদিকে বুধবার থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও রংপুর বিভাগের দিনাজপুর ও গাইবান্ধায় নাম মাত্র সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন হয়েছে। এখনো বিভাগের কোথাও পুরোপুরিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। বেশির ভাগ জেলায় পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি না হওয়াতে ধান সংগ্রহে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষকের অ্যাপ সম্পর্কে জানতে সাধারণ কৃষকদের দ্রæত সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছে খাদ্য বিভাগ।

রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস জানান, দু’একদিনের মধ্যে উপজেলা পর্যায় থেকে কৃষকদের তৈরি তালিকা পাওয়া যাবে। এরপরই পুরোদমে ধান সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। রংপুর বিভাগের মোট ৮৯টি সরকারি খাদ্য গুদামে কৃষকরা সরাসরি ধান বিক্রি করতে পারবে। ২৬ টাকা দরে একেকজন কৃষকের কাছ থেকে কমপক্ষে চারশ কেজি ধান কেনা হবে।

পুরো বিভাগের আট জেলা থেকে এবার ১ লাখ ৮৮৩ মেট্রিক টন চাল ক্রয় করবে সরকার।

কৃষকের অ্যাপ ব্যবহারের জন্য শুরুতেই এটি স্মার্টফোনে ডাউনলোড করতে হবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির আবেদন করা যাবে।

এ বিষয়ে রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রায়হানুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকের অ্যাপ’ কৃষকদের মাঝে দ্রæত প্রশিক্ষণ শুরু করা হবে। কৃষকরা প্রশিক্ষণ পেলে এই সমস্যা থাকবে না।

উল্লেখ্য, সময়, খরচ ও হয়রানি রোধসহ প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করার লক্ষ্যে ডিজিটাল পদ্ধতির ‘কৃষকের অ্যাপ’ মাধ্যমটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করেছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে ১৬ জেলার ১৬টি উপজেলাতে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।