শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন

প্রিয়জন পাশে না পাওয়া শেষ বিদায় কারও কাম্য নয়-রাকিবুজ্জামান আহমেদ

রংপুর সংবাদ
  • প্রকাশের সময়ঃ বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০
  • ৭৮ জন দেখেছেন

মাহির খান,সাহানুর রহমানঃকরোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়ছে মৃত্যু। এই তালিকায় সংযুক্ত হচ্ছেন আমাদের স্বজন-পরিজন। মন্ত্রী-এমপি থেকে কেউ বাদ যাচ্ছেন না। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ, সিলেটের সাবেক জনপ্রিয় মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নানের স্ত্রী কামরুন নাহার। আরও কত মুখ। চলে গেলেন। শোক সংবাদে বেদনা বিধুর সকাল আসে, নিকষ কালো ভয়ংকর অন্ধকার নামে।

একেকটি দু:সংবাদে ভয় মৃত্যুর আতংক তাড়া করে ফিরছে মানুষকে। সকাল থেকে রাতের গভীরে। অনেকে করোনায়, কেউ কেউ নানা রোগে বা হঠাৎ চলে যাচ্ছেন বিনানোটিশে। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রাণ রক্ষার করুন আকুতি ছাড়া আর কি জানাতে পারি আমরা? এমন এক সময় তারা চলে যাচ্ছেন, স্বাস্থ্যবিধির নির্দয় ফরমানে যার জানাযায় লাখো শোকার্ত মানুষের ঢল নামতো সেখানে কাছের স্বজনরাও যেতে পারছেন না।

আমরা জানি, মৃত্যুর স্বাদ সবাইকেই নিতে হবে। কিন্তু করোনাকালের মৃত্যু এতো মর্মান্তিক ও বেদনা বিধুর যে, প্রিয়জন পাশে না পাওয়া শেষ বিদায় কারও কাম্য ছিলোনা।

ক্রমেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বলা যায় করোনাসংক্রান্ত এইসময় জনজীবনকে অচল, স্থবির ও বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে ফেলেছে। করোনা আক্রান্তের কোনো চিকিৎসা নেই। আবিষ্কার হয়নি কোনো ভ্যাকসিনও। এই অবস্থায় সচেতন ও সাবধান হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া উপায় নেই।

প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার পরিসংখ্যান তুলে ধরা সুখকর নয়। কারণ এই সংখ্যা ও পরিসংখ্যানের মধ্যে আমি, আপনি, আমার-আপনার আপনজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী, প্রতিবেশী প্রতিদিনই অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। আক্রান্তের তালিকা ইতোমধ্যে বেশ দীর্ঘ। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, ডাক্তার,স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, অন্যান্য পেশার মানুষ, সাধারণ জনগণ এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুর তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য সেবাদানকারীরা তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করলেও এই সংখ্যা ও পরিসংখ্যানকে নিম্নমুখী করা যাবে না, যদি না আপনারা অর্থাৎ আমরা সচেতন না হই।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে আমি বা আপনি একটি সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত হলে এবং পরিসংখ্যানে স্থান পেলে গবেষণার কাজে সহায়তা হবে। কিন্তু আমার-আপনার পরিবারের আপনজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী যে কষ্ট ও দুঃখের মধ্যে পড়বে, সেটা বিবেচনা করে সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা মোকাবিলায় সচেতন হোন। আর মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করুন।

আল্লাহ ছাড়া আনুগত্য পাওয়ার মতো আর কেউ নেই, তিনি বাদশাহ, অতি পবিত্র, শান্তির আধার, নিরাপত্তাদাতা, রক্ষক, সবার ওপর বিজয়ী, নিজ হুকুম প্রয়োগে পূর্ণ ক্ষমতাবান এবং প্রবল পরাক্রমশালী। সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশালী এবং ক্ষমতার নিরঙ্কুশ মালিক। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর আর যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা সম্মান কেড়ে নাও। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।’

এতে জগতের বৈপ্লবিক ঘটনা সম্পর্কে অজ্ঞ এবং অতীতকালের শক্তিশালী জাতিগুলোর উত্থান-পতনের ইতিহাস সম্পর্কে উদাসীনদের হুঁশিয়ার করা হয়েছে। স্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে, এ জগতের সব শক্তি ও রাষ্ট্রক্ষমতা একমাত্র আল্লাহতায়ালার করায়ত্ত। সম্মান ও অপমান তারই নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি দরিদ্র ও পথের ভিখারীকে রাজ সিংহাসন ও মুকুটের অধিকারী করতে পারেন এবং প্রবল প্রতাপান্বিত সম্রাটের হাত থেকে রাষ্ট্র ও ঐশ্বর্য ছিনিয়ে নিতে পারেন।

এ বিশ্বে স্থায়ী কিছুই না। আমাদের সমস্যাগুলোও না। দু:সময়ের অন্ধকার কখনও কখনও আমাদের জীবনে সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহুর্তের দ্বার খুলে দেয়। সহজে সফলতার আনন্দ কোথায়? দেখবেন, বাঁধা যত বিশাল বিজয়ের আনন্দও ততই বাধঁভাঙ্গা।

করোনাভাইরাসের সঙ্গে সঙ্গে বর্ষার শুরুতেই ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলছে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া। গত বছরের ডেঙ্গু মহামারীর কথা সবার মনে আছে। তদুপরি ডেঙ্গু এখন আর কেবল শহর-নগরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা গ্রাম-গঞ্জেও সম্প্রসারিত। সেই তুলনায় রক্তের প্লাটিলেটসহ চিকিৎসার সুবিধা অনেক কম। এর ওপর রয়েছে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা করোনাভাইরাস। সাধে কি বাংলা ভাষার কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আক্ষেপ করে বলেছেন, মন্বন্তরে মরি না আমরা, মারী গিয়ে ঘর করি …।

মহামারি যে বিষয়টি আমাদের সামনে একেবারে উদোম করে দিয়েছে তাহলো, মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতার অভাব। ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে না উঠতে পারার অক্ষমতা, নিজের কর্মকাণ্ড কিভাবে অন্যদের প্রভাবিত করছে সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা না করতে পারার বৈকল্য এবং সর্বোপরি নিজেকে সমাজের প্রান্তিক মানুষজনের জায়গায় দেখতে পারার দরুণ তাদের সমস্যাগুলোকে নিজের সমস্যা হিসেবে দেখতে না পারার ব্যার্থতা।

একটা মহামারী আমাদেরকে যে শিক্ষা দেয় তা হলো একাকী বেঁচে থাকা যায়না, সমাজের এক অংশ বাদ দিয়ে অন্য অংশের টিকে থাকা দুরুহ। মহামারি আমাদের বলে যায়, একা শুধুমাত্র নিজের জন্য বেঁচোনা, এটা অর্থহীন।

মানুষের টিকে থাকার শক্তি, মহামারির প্রস্তুতি মানে শুধু নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবা নয় বরং নিজের কর্মকাণ্ডের কারণে অন্যরা কোন ঝুঁকিতে পড়লো কিনা তা ভেবে কাজ করা। সংক্ষেপে সমাজের এবং সম্প্রদায়ের মানুষ নিয়ে ভাবা, তাদের প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

যেকোনো ক্রান্তিকালেই মানুষের মানসিকতা, মানবিকতা ও সহমর্মিতা যেমন প্রকাশিত হয়; বিপরীত দিকে বিভাজন, অমানবিকতা ও অসহযোগিতাও প্রকাশ পায়। ভয়ঙ্কর করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটেছে এক বৈশ্বিক যুদ্ধের আকারে। এটা সুনির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা ধর্মের লোকদের শুধু আক্রান্ত করছে না। করোনা আমাদের জাতীয় জীবনের বিপদ। দুঃখ-কষ্ট ও অনিশ্চয়তার আঘাত হানা ছাড়াও বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষের জীবনধারণের সমস্যা প্রকটতর করে তুলেছে।

জাতীয় এই মহাদুর্যোগ একদিন না একদিন কেটে যাবে- ইনশাআল্লাহ। কিন্তু পারিবারিক ভালোবাসা, সামাজিক সংহতি, মমত্ববোধ, সহমর্মিতা ও সহযোগিতাহীনতার রেশ থেকে যাবে দীর্ঘদিন। এর ক্ষত সমাজকে বয়ে বেড়াতে হবে অনেকদিন। মানুষের স্বাভাবিক সংবেদনশীলতা, মানবতাবোধ ও পরার্থপরতার মূলে আঘাত দেওয়ার কথা মানুষকে নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখে দাঁড় কয়ে দিয়েছে।

বর্তমানে যখন পৃথিবীর গভীর গভীতর অসুখ, বাংলাদেশও ধুঁকছে এক অচেনা ও অশরীরী শত্রুর আক্রমণে তখন সকল দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা একাই লড়ছেন। তিনিই দিচ্ছেন সকল নির্দেশনা। আর্থিক প্রণোদনা, দরিদ্র ও তৃণমূল মানুষের জন্য অর্থ সহযোগিতা, চিকিৎসা সেবা, সামাজিক সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা সবক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত এবং সিদ্ধান্তের ত্বরিত বাস্তবায়ন সবই সম্ভব হচ্ছে শুধুমাত্র নেতৃত্বের সুদক্ষতায়।

এবারের বাজেটের সবচেয়ে বড় দিক হলো সাহস। বাজেট যেহেতু শুধু কোনও অর্থনৈতিক দলিল নয়, এটা সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সরকারের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা, তাই এখানে বাজেটের অন্তর্নিহিত বিষয়টিই বড়। অন্যান্যবার ছিল অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় অর্থনীতির আকার আরও বড় করা।

এবার সেখানে অনেকেই মনে করেছিল করোনার কারণে সরকার ভয় পেয়ে বাজেট ছোট করে অর্থনীতির আকার সংকুচিত করে ফেলবে। সেটা না করে অর্থনীতির আকার আরও বড় করা এবং জিডিপি ৮.২ পার্সেন্ট ধরে এগিয়ে যাওয়ার যে নীতি নিয়েছে, এটাই হলো এ বাজেটের সবচেয়ে বড় দিক। এই দৃষ্টিভঙ্গিই করোনাকালের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে।

সর্বোপরি মানবিক হতে পারাটাই হবে করোনার ওপর মানুষের প্রকৃত বিজয়।

পৃথিবীর সুন্দরতম জিনিসগুলো হাতে ছোঁয়া যায় না, চোখে দেখা যায় না। সেগুলো অন্তর দিয়ে অনুভব করতে হয়- সেগুলো হচ্ছে ভালোবাসা, দয়া, আন্তরিকতা।

মানুষকে সম্মান দিন সবসময়। ভালোবাসুন। ভালো মানুষকে জানুন,তাকে জানতে হলে তাকে ভালবাসুন।আল্লাহ যাকে সন্মান দেন তার সন্মান নষ্ট করার চেষ্টা করে নিজের অস্তিত্ব নষ্ট করবেন না। অন্যকে সম্মান না দিলে তারাও আপনাকে সম্মান দেবে না। মানুষ- সে যে পেশারই হোক না কেন, সম্মান দিন। তখন দেখবেন শ্রদ্ধা, সম্মান, ভালোবাসায় ভরে উঠবে আপনার চারপাশ।

 

সংগ্রহঃRakibuzzaman ahmed – টাইমলাইন থেকে নেয়া।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

© All rights reserved © Rangpur Sangbad
Design & Develop By RSK HOST