রংপুর সংবাদ » রংপুরে পেয়াজের কেজি ২৫০,গ্রামাঞ্চলের ৩শ ছাড়িয়ে

রংপুরে পেয়াজের কেজি ২৫০,গ্রামাঞ্চলের ৩শ ছাড়িয়ে


রংপুর সংবাদ নভেম্বর ১৫, ২০১৯, ৫:২২ অপরাহ্ন
রংপুরে পেয়াজের কেজি ২৫০,গ্রামাঞ্চলের ৩শ ছাড়িয়ে

রংপুর প্রতিনিধি;

স্মরন কালের সকল রেকর্ড ছাপিয়ে রংপুরে খোলা বাজারে পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি অন্যদিকে গ্রাম অঞ্চলের হাট বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩শ টাকার দরে। পিয়াজের অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধির কারনে ভোক্তাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে পেয়াজের মজুতও প্রচুর তার পরেও কেন দফায় দফায় দাম বাড়ছে তার কোন সদুত্তোর মিলছেনা ব্যবসায়ী আর আড়ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।

বিভাগীয় নগরী রংপুরের সিটি বাজারের পার্শ্বে নিউ জুম্মপাড়াস্থ সব্জির পাইকারী বাজারে ঘুরে এবং আড়তদার দের সাথে কথা বলে জানা গেছে পেয়াজের আমদানী কম তার উপর চট্টগ্রামের খাতুনগজ্ঞ আড়তে পেয়াজের দাম বেশী তার পরেও চাহিদা অনুযায়ী তারা সরবরাহ করতে না পারায় সংকট দেখা দিয়েছে। আড়তদার সব্জি ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম জানান তারা সরাসরি চট্টগ্রাম থেকে পেয়াজ নিয়ে আসেন। মোকামেই পেয়াজের দাম পড়ছে ১৮০ থেকে ২শ টাকা কেজি ফলে সেখান থেকে রংপুরে আনতে গাড়ি ভাড়া সহ অন্যান্য খরচ পড়ে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা ফলে তার পাইকারী বিক্রি করছেন ২২০ টাকা কেজি। অপর আড়তদার মোকসেদ আলী জানান পেয়াজের দাম মোকামেই বেশী হওয়ায় তাদের বেশী দামে কিনে আনতে হচ্ছে ফলে দাম বেড়েছে। তিনি জানান পেয়াজের আমদানী বৃদ্ধি না পেলে ৩শ টাকার উপরে পেয়াজের দাম উঠবে বলে জানালেন তিনি।

তবে সরজমিন পেয়াজের আড়তে ঘুরে দেখা গেছে সব গুলো আড়তেই দেশী পিয়াজ এ গুলো গুদামজাত করে রাখা ছিলো এখন বাজারে বিক্রি করছে তারা ইচ্ছে মতো দামে। নাম প্রকাশে অনিশ্চুক একজন ব্যবসায়ী জানান বাজারের সব পেয়াজ দেশে উৎপাদিত। আমদানী করা পেয়াজ বাজারে নেই বললেই চলে ফলে পেয়াজের দাম এত বেশী বাড়ার কোন কারন থাকতে পারেনা।
অপরদিকে পাইকারী বাজারের ১শ দুরেই সিটি বাজার সেখানে পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে আড়াইশ টাকা কেজি দরে। সরজমিন নগরীর সবচেয়ে বড় সব্জি বাজারে ঘুরে দেখা গেছে পেয়াজের দাম আড়াইশ টাকার নীচে বিক্রি করছেনা খুচরা ব্যবসায়ীরা।

তারা জানায় বেশী দামে পেয়াজ কিনে আনতে হচ্ছে বলে দাম বেশী। শুক্রবার বাজার করতে আসা চাকুরীজিবি সেলায়মান আলম জানান আড়াইশ টাকা দামে প্রতি কেজি পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে এটা ভাবা যায় এত দামে পেয়াজ কেনা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে এক কেজির স্থলে এক পোয়া কিনতে বাধ্য হলাম। তিনি অভিযোগ করেন পত্রিকায় দেখলাম কয়েকদিন আগে বানিজ্য মন্ত্রী রংপুরে বলেছেন পিয়াজের দাম একশ টাকার নীচে নামার আপাতত কোন সম্ভাবনা নেই। এর পর থেকেই রংপুরের বাজারে পেয়াজের দাম বাড়া শুরু হয়েছে।

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত এক নারী জানালেন দেশটা কি মগের মুল্লুক ইচ্ছা মতো পেয়াজের দাম বাড়বে অথচ সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন থাকবেনা। তিনি বলেন রংপুরের বাজার নিয়ন্ত্রনে প্রশাসনের কোন উদ্যেগ লক্ষ্য করলামনা।
গৃহবধু বিলকিছ আখতার জানালেন শুক্রবার বাজার করতে এসে দেখছি পেয়াজের কেজি আড়াইশ টাকা বাধ্য হয়ে আধা কেজি কিনলাম। রান্নার অন্যতম উপকরন হচ্ছে পেয়াজ তার দাম যদি এতো বেশী হয় তাহলে আমাদের মতো নি¤œবিত্তদের পেয়াজ ছাড়াই রান্না করতে হবে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বললেন পেয়াজের দাম বেশী হবার কারনে কেউ আর কেজি হিসেবে পেয়াজ কিনছেননা বেশীর ভাগ খদ্দের এক পোয়া বা আধা কেজি কিনছেন।

এদিকে পেয়াজের অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধির কারনে প্রশাসন কি ব্যবস্থা নিয়েছে জানতে রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বিষয়টি উদ্বেগের আমরা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা সহ সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহন করছি বলে জানান